মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

যৌতুক ও বাল্য বিবাহ

দেশের অর্ধেক নর ও অর্ধেক নারী এই নিয়ে মিলেমিশে আছে এদেশের আপাময় জনসাধারণ । আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষৎ । বরেণ্য কবি সাহিত্যিকরা বলেছেন আজ যে শিশু জন্মেছে তাহের বাসস্থান গড়ে তুলে দিয়ে যেতে হবে কারণ তাহারাই একদিন হবে সৈনিক, বিচারক, শিক্ষক, কবি, সাহিত্যিক, গবেষক বা দেশ চালানোর হাতিয়ার । দেশ গড়ার কাজে শুধু মাত্র পুরুষরা নয় নারীদের অবদান রয়েছেন ইহার ভাগিদার উভয়ই । কিন্তু  দেশে শুরু হয়েছে নারীদের প্রতি অবহেলা, অমর্যাদা, মারপিট, জীবননাশ বা ভোগ বিলাসের পুতুল । তাহার কারণ রয়েছে অনেক প্রকার । অবলা ও অসহায় নারী আজ বিভিন্ন ভাবে নির্যাতিত হচ্ছে । যৌতুকের মত মরণ ব্যধি আজ সমাজের নানা স্তরে প্রকাশ্য বা অপ্রকাশ্যভাবে ছড়িয়ে রয়েছে । সেই সঙ্গে শুরু হয়েছে বাল্য বিবাহ প্রথা । আজ আমাদের দেশের সমাজের মধ্যে বেশিরভাগ মেয়ের বয়স ১০-১৭ বৎসর হলেই বিবাহ দেওয়ার জন্য বাবা মা পাড়া প্রতিবেশি ব্যস্ত হয়ে পড়ে এবং লুকিয়া হলেও তাহা বাস্তবায়ন করেন । আর একারণে হচ্ছে না তাদের উচ্চ শিক্ষা গ্রহন পায় না তাহার নারীর অধিকার । অথচ সরকার এ বিষয়ে অত্যান্ত তৎপর হওয়া সত্বেও ইহা রোধ করতে পারছে না ।  সরকারে পক্ষ থেকে জারিকৃত আদেশ রয়েছে কোন মেয়ে শিশু থেকে বালিকা এবং বালিকা থেকে সাবালিকা না হওয়া পর্যন্ত বিবাহ দেওয়া যাবে না এতে তাদের শারীরিক ও মানষিক আঘাত হানে ।  কিন্তু সরকারের এই আদেশ তোয়াক্কা না করেই সমাজের অধিকাংশ মানুষই এ ধরনের জঘন্য কার্য অবাদে করছে ।  আবার অনেক সময় বাবা মা নিরুপায় হয়েও এধরণের কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে কারণ অনেক মেয়ে-ছেলেরা লেখাপড়া বা গল্প গুজোবের মধ্যে ও মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে বাবা-মার কিছু গহনা/টাকা পয়সা নিয়ে বয়সের দিকে নজর না দিয়েই একজন অন্য জনকে ভালবেশে বাবা মাকে চরম আঘাত দিয়ে পালাইয়া গিয়ে লুকে বা কোর্ট ম্যারেজ করে অপ্রাপ্ত বয়স হওয়া সত্ত্বেও সাবালক/সাবালিকা সেজে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছে । এতে দেখা যায় একটি মেয়ে একটি বেকার যুবকের সঙ্গে না বুঝেই ঘর সংসার করছে । সংসারের নানা সমস্যা না বুঝেই অপ্রাপ্ত মেয়ের কোল জুরে আসে ছোট শিশু আর অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়ে হওয়ার জন্য তাহার ও তাহার সন্তানের শরীর হয় অত্যান্ত দূর্বল এজন্য কোন কোন সময় অকালে মা ও শিশুকে মৃত্যু কোলে ধলে পড়তে হয় । ইহার পরবর্তিতে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পরিনতি দেখা যায় সাংসারিক অভাব অনটনে সকল ভালবাসা দেয়াল ভেঙ্গে পালায় তথন শুরু হয় মেয়ের প্রতি নানা প্রকারের নির্যাতন ও যৌতুকের মতো জগন্য চাহিদা । তখন মেয়ের পিতা মাতার নিকট যৌতুক দাবী করে অনেক সময় কেহ দেয় কিন্তু দিয়েও শান্তি নাই, যে যৌতুক দেওয়া হয়েছে তাহা শেষ হলেই শুরু হয় আবারো নির্যাতন ।  তাই, যৌতুক ও বাল্য  বিবাহ রোধ করতে শুধু মাত্র সরকারকের দায়িত্ব একা নিলে চলবে না সমাজের সকল শ্রেণির পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিকে ইহা প্রতিরোধের জন্য সচেষ্ট থাকতে হবে ।